শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

সরকার দেশে খুন-ধর্ষণ বিস্তারের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে : বিএনপি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
  • ২০১ Time View

 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরাস্থ বাসভবনে হামলায় সরকারি মদদ রয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। শনিবার বিএনপি স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এ কথা জানানো হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরাস্থ বাসভবনে কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বহিরাগত ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসার ক্ষতিসাধন করে। আরো বলা হয়, মির্জা ফখরুলের বাসভবনে হামলা নিয়ে সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভা এই ঘটনার পেছনে সরকারি মদদ রয়েছে বলে মনে করে। বর্তমানে সারাদেশে গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের যে মহামারি চলছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতেই সরকারের এজেন্টরা এ হামলা চালিয়েছে। সভা এই অনাকাক্সিক্ষত সন্ত্রাসী ঘটনার তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না : আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী আপনি আর জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আহ্বান জানান। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মোর্শেদ হাসান খান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহিজ্জামান অ্যাপোলোকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কালকে একটা কথা বলেছেন মুজিববর্ষে মানুষকে আমি সুন্দর জীবন দিব। আল্লাহর দোহাই প্রধানমন্ত্রী আপনি আর জনগণকে সুন্দর জীবন দিয়েন না। আপনি মুজিববর্ষের শুরু থেকে এই ছয় মাসে যে সুন্দর জীবন দিয়েছেন, তাতেই ফেনী থেকে বেগমগঞ্জ, বেগমগঞ্জ থেকে সিলেট, সিলেট থেকে সিরাজগঞ্জ শুধু আর্তনাদ। এই আর্তনাদের জীবন আপনি দিয়েছেন। আপনি যদি আরও ছয় মাস সুন্দর জীবন দিতে যান, তাহলে এই জীবনে আরও কত আর্তনাদ-হাহাকার ও আহাজারি বাতাসে ধ্বনিত হবে তার কোনো ঠিকানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার এই ছয় মাসের সুন্দর জীবন হবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের। তারা আনন্দে থাকবে আরও কত ক্যাসিনো গড়ে উঠবে। কত তরুণী লাঞ্ছিত হবে। আপনি আর সুন্দর জীবন দিয়েন না। এবার আপনি পদত্যাগ করুন। জনগণ একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবে। মাদকের বিস্তার মন্ত্রিসভা পর্যন্ত লাভ করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্বাস্থ্য সেবা পেয়েছেন, আমরা করোনায় জনগণকে সেই স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে হয় এটা ‘গঞ্জিকার’ প্রভাবে বলেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারি হিসেবে ৭০১ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘরের মধ্যে মারা গেছেন। বাড়ি থেকে হাসপাতালে যেতে এ রকম রোগী ৪০ থেকে ৫০ জন মারা গেছেন। ৩ লাখ ৭৪ হাজার সংক্রমণ হয়েছে এবং মারা গেছে অসংখ্য জন। এরপর তিনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) বলেন ট্রাম্প যে সুবিধা পেয়েছেন, সেভাবে চিকিৎসা হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের। এই যে ‘চাপাবাজি’, এই যে মিথ্যাচার, তা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং ডিজি হেলথ সার্ভিসের যে পরিসংখ্যান দিচ্ছেন এর মধ্যে মিল নেই। করোনায় গ্রামের মানুষ হাসপাতালে আসতে পারছে না, ফলে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে রাস্তাঘাটে বাড়ির মধ্যে। এই পরিসংখ্যান কিন্তু সরকারের নেই অথচ এই ‘অপদার্থ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন দেশের জনগণ সেই চিকিৎসা পাচ্ছেন। এই লোকটাকে কেন টিকিয়ে রেখেছে জানেন? ধনী লোক তো সরকার তার কাছ থেকে অনেক টাকা পয়সা নিয়েছেন। সেটা না হলে এই ধরনের একজন ব্যর্থ ও অকাট মূর্খ লোক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন চিন্তাই করা যাবে না। ‘কারও দয়ায় ক্ষমতায় নেই আওয়ামী লীগ’ গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের দয়ায় আপনারা ক্ষমতায় নেই এটা তো সত্যি। সত্যি কথাই বলেছেন ওবায়দুল কাদের। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তারা তো ক্ষমতায় নাই। তারা অন্য দেশের দয়ায় ক্ষমতায় আছেন। তবে দেশের জনগণের দয়ায় নয়। রিজভী বলেন, সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে শুধু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন হয়েছে। বাদ জায়নি ৫ বছরের শিশু থেকে ৭২ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্তও। এগুলোর চমৎকার উন্নয়ন ঘটিয়েছেন তিনি। এছাড়া এই আমলে মাদকের ছড়াছড়ি। মাদক ছাড়া কোনো কিছু কল্পনা করা যায় না। মাদকের সঙ্গে মাদক কারবারিরা যুক্ত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে কিছু মন্ত্রীর কথা শুনে মনে হচ্ছে মাদকের বিস্তার মন্ত্রিসভা পর্যন্ত লাভ করেছে। ঢাবির শিক্ষক মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মোরশেদ খান একজন তারুণ্যদীপ্ত শিক্ষক। তার স্ত্রী যখন ক্যান্সারে ভুগছেন, সেই সময় তিনি বার্তা পেলেন তার চাকরি নেই। শুধুমাত্র ভিন্নমতের কারণে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ছিলাম, সিন্ডিকেট মেম্বার ছিলাম। ’৭৩-এর অ্যাক্টে যে বিধান রয়েছে সেটা আমার মোটামুটি জানা আছে। ভিন্নমতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি যেতে পারে না। নৈতিক স্খলনের জন্য হয়তো তার কিছু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আজকে মোরশেদ খান এবং অ্যাপোলো তাদের যে চাকরিচ্যুতি এটাও হচ্ছে ভিন্নমতের কারণে। তারা শুধুমাত্র একটি প্রবন্ধ লিখেছেন জিয়াউর রহমানের ওপরে। এত কাপুরুষ, এত দুর্বল সরকার যে, জিয়াউর রহমানের ওপর একটি প্রবন্ধ লেখাতে তারা আতঙ্কিত হয়ে গেছে। এই কাপুরুষতার কারণেই তাদের অনুগত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ঢাবি ভিসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নৈতিক স্খলনের জন্য দায়ী বর্তমান এই ভাইস চ্যান্সেলর। ভাইস চ্যান্সেলরকে গলায় গামছা দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে আনা দরকার। তা না হলে সুশিক্ষা থাকবে না। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হতে পারবে না। সরকারের প্রকৃতভাজন হওয়ার আশায় এই ধরনের একজন ভাইস চ্যান্সেলর নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছেন। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ পর্যন্ত যত ধর্ষকদের বাছাই করা হয়েছে এবং যাদের চেহারা উন্মোচিত হয়েছে, তাদের সবার ট্রেনিং ক্যাম্প ছিল ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন। ওই ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে তাদের মুরুব্বীরা তাদের বাছাই করেছে। জনগণের কাছে ক্ষমতা ফেরত দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দিতে আদালতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলাল বলেন, গত পরশুদিন এবং তার আগের দিন দু রাতে আদালত মধ্যরাতে বসেছে। উচ্চ আদালত বসে বাকেরগঞ্জের ৪ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিয়েছে। আরও একটি ঘটনায় অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ তারা নিয়েছেন। আদালতকে বলব সব যখন স্তব্ধ হয়ে যায়, মানুষ তখন আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকে। আপনারা মধ্যরাতে আদালত বসান। মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের যারা অভিভাবক সেই জনগণের কাছে ক্ষমতা ফেরত দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দিন। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করুন তাহলে মানুষ আপনাদের স্মরণ করবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখে যৌন নির্যাতন হয়েছে। তার বিচার এখনো পর্যন্ত হয়নি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণে যাওয়ার পথে যৌন নিপীড়নের শিকার বোনদের বিচার পাওয়া হয়নি। ভিকারুন্নেসা নুনের পরিমল যে ছাত্রী ধর্ষণ করেছে তার বিচার হয়নি। হোটেল রেইনট্রিতে আওয়ামী লীগের এমপির দুই ছেলে গণধর্ষণ করছে তার বিচার হয়নি। আমরা জানি এখন যেসব ধর্ষণ হচ্ছে এগুলোরও বিচার হবে না। শুধুমাত্র চোখে সুরমা লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিচার ব্যবস্থাকে যারা কলুষিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দুটি পথ। প্রথমটা রাজপথে উত্তাল আন্দোলন করা আর আরেকটা হচ্ছে আদালত। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Develop BY Our BD It
© All rights reserved © 2020 adibanglanewsbd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102