শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গলাটিপে হত্যা করার অংশ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৩০ Time View

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে। সেই দেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গলাটিপে হত্যা করার অংশ।

 

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিনাশ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই মাঝে মাঝে সেই অপশক্তি ফণা তোলে ছোবল মারার জন্য। কিন্তু যেই সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই শক্তির কাছে অপশক্তি সবসময় পরাজিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কোনও ধর্মই উগ্রবাদ সমর্থন করে না।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে কোনোভাবেই ছোবল মারার সুযোগ দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

 

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর জেনারেল সি আর দত্ত বীর উত্তম এর স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই আন্তর্জাতিক শক্তি এবং মৌলবাদী অপশক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে হত্যা করার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। সে জন্য যেই চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘৭৫ এর পর সেই চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্র পেছন দিকে হাঁটা শুরু করে।

 

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্মীয় প্রবাদ সবসময় সব ধর্মের জন্য কল্যাণকর। সব ধর্মই মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ, মানুষের প্রতি মানুষের দয়ার শিক্ষা দেয়। কোনও ধর্মই উগ্রবাদ সমর্থন করে না। ধর্মেরভিত্তিতে কোনও রাষ্ট্র হতে পারে না। অসাম্প্রদায়িক চেতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ রচিত হয়েছে এবং এই চেতনাকে আমরা ভুলুন্ঠিত হতে দিতে পারি না।’

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করে, আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা বাঙালি। পরের পরিচয় কে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল ধর্মীয় পরিচয়টা বড় করে দেখে। এরপর বাঙালি না বাংলাদেশি সেই দ্বন্দ্বে যায়। এখানেই আমাদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য।

 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, যদিও সময়ে সময়ে গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানি সৃষ্টি করা হয়। সরকার সেটি কঠোর হাতে দমন করেছে। ভবিষ্যতেও এটি কটোরভাবে দমন করা হবে। শেখ হসিনা একদিকে খুব ধার্মিক, অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক।

 

ধর্ম যখন ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায় তখন নিজের স্বার্থে ধর্মের অপব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

 

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এই মাটি আপনাদের। এই দেশ আপনাদের। আপনারা এই মাটির সন্তান। সুতরাং এখানে কেউ কেউ চোখ রাঙালে পাল্টা চোখ রাঙাতে হবে। তাহলেই নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

 

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মেজর জেনারেল সি আর দত্তের কথা স্মরণ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি ছিলেন সাহসী, সৎ, অসাম্প্রদায়িক, নিরহংকার। সবাইকে আপন করে নেওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার।

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উষাতন তালুকদার, ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, সাংবাদিক স্বপন কুমার সাহা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Develop BY Our BD It
© All rights reserved © 2020 adibanglanewsbd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102