রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

ঈদে হিজড়াদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১
  • ১৪ Time View

হিজড়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়,চাদাবাঁজী , ছিনতাই, নবজাতক ও শিশুদের জিম্মি করে অভিভাবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বাগিয়ে নেওয়াসহ অনেক অনেক অভিযোগ। আর এত এত অভিযোগের ভিড়ে লাবণ্যদের কথা চাপা পড়ে যায়।

বলছিলাম ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াশিকুরকে হত্যার পর ধাওয়া খেয়ে পালাতে থাকা দুই জঙ্গি আরিফুল ইসলাম ও জিকরুল্লাহকে শুধু দুই হাত দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন লাবণ্য হিজড়া। তুমুল আলোচনায় এসেছিলেন লাবণ্য। তবে বছরটির শেষ নাগাদ এই লাবণ্যকেই নিজের নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়তে হয়। বর্তমানে তিনি দেশ ছাড়তেই বাধ্য হয়েছেন।রাস্তাঘাটে হিজড়াদের হাতে প্রায় জিম্মি হয়ে থাকতে বাধ্য হয় বলে মানুষও সহানুভূতিশীল হতে পারছে না। হিজড়া জনগোষ্ঠীরও অনেকে বিশেষ করে যাঁরা কিছুটা শিক্ষিত বা কোনো সম্মানজনক কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁরাও চান না হিজড়ারা মানুষকে জিম্মি করুক। তবে হিজড়ারা বাধ্য হয়েই এ ধরনের কাজ করেন বলেও বলছেন তাঁরা।

হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা। হিজড়াদের কেউ কেউ অভিযোগ করছে, রাজধানীতে অনেক ‘নকল’ হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।
ট্রাফিক সংকেতে যানবাহন থামার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। তাদের সঙ্গে তর্ক করলে যাত্রীদের আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায়, হিজড়াদের একটি দল বিজয় সরণি মোড়ের চতুর্দিকে সিগন্যাল পড়লেই দৌড়ে এসে যানবাহনে থাকা যাত্রীদের কাছে টাকা দাবি করছে, না দিলে যাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দিচ্ছে।
মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল পথে চলাচলকারী একটি বাসে উঠে পড়ে দুজন হিজড়া। প্রত্যেক যাত্রীর কাছে গিয়ে টাকা চাইতে থাকে। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই গায়ে হাত দিচ্ছিল, আজেবাজে কথা বলছিল। তারা বাস থেকে নেমে যেতেই একাধিক যাত্রী বললেন, হিজড়াদের টাকা আদায় এখন রীতিমতো উৎপাতে পরিণত হয়েছে। হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে একটি জরিপ করেছিল। ওই জরিপে হিজড়াদের সংখ্যা ১৫ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে হিজড়াদের দাবি, শুধু ঢাকা শহরেই কমপক্ষে ৩০ হাজার হিজড়া আছে। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার হিজড়াদের একটি পৃথক লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
হিজড়ারা বলে, গ্রামাঞ্চলে কিংবা জেলা শহরগুলোয় হিজড়াদের একঘরে হয়ে থাকতে হয়। সে কারণে তারা মহানগরগুলোয় চলে আসে। এদিক থেকে ঢাকা তাদের সবচেয়ে পছন্দ। সদ্য জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর খবর পেলেই বাসাবাড়িতে চলে আসছে হিজড়ারা। তাদের দাবির পরিমাণ অর্থ না দিলে বিশৃঙ্খলা শুরু করে। উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার খবর জানা যায়। এমনই একজন ভুক্তভোগী বাড্ডার বাসিন্দা তাহ্নিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাচ্চার বয়স ২০ দিন না হতেই একদল হিজড়া এসে হাজির। হট্টগোল শুরু করে। ১০ হাজার টাকা না দিলে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করার হুমকি দেয়। পরে তিন হাজার টাকা দিয়ে রেহাই মেলে।’
কয়েক দিন আগে হিজড়াদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যক্তি বলেন, ‘অফিসের নারী সহকর্মীর সঙ্গে কাজে যাচ্ছিলাম। সায়েন্স ল্যাব পুলিশ বক্স মোড়ে রিকশার জট লাগতেই দুই হিজড়া দুপাশে এসে দাঁড়িয়ে টাকা চাইল। নারী সহকর্মীর শরীরে হাত দিতে শুরু করলে ২০ টাকা দেই। কিন্তু তারা আজেবাজে কথা বলতে শুরু করে।’
আজ টংগীতেও দেখা যায় হিজড়াদের চাদাবাঁজী প্রতি দোকান থেকে ৫০-১০০ টাকা দিতে দেখা যায়।টংগী বাজার গরুর হাট এলাকায় জাকির মিয়ার মাকেট এর মেমোরী লোডের দোকান,শুটকির দোকান ও ডাবের দোকান গুলো ছাড়াও ফারুকের শরবতের দোকান থেকে নেয় ২০০ টাকা।ফারুক জানায় সম্মানহানী থেকে বাচতেই দিয়েছি।একজন বলে এমনিতে ব্যবসা মন্দা তার মাঝে চাদাবাজী আমরা ব্যবসায়ীগন বিপদেই আছি।আমাদের মতো নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীদের জন্য কেউ নেই।

কিন্তু এভাবে কত দিন চলবে?

হিজড়া হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও এখন পর্যন্ত হিজড়াদের নারী বা পুরুষ হিসেবেই ভোট দিতে হচ্ছে। পাসপোর্ট করতে হচ্ছে।

অনন্যা বণিকের মতে, ‘ভোটার তালিকায় নারী, পুরুষ না “অন্যান্য” যে ঘর তাতে হিজড়া লিখে ভোট দেওয়ার চেয়েও সরকার, সমাজ আমাকে মূল্যায়ন করল কি না, তা–ই বড় বিষয়। সমাজ তো আমাকে মূল্যায়ন করছে না। কাজ না শিখিয়েই বলছে আমি কাজের যোগ্য না। আমাকে কাজ শিখিয়ে উপযুক্ত কাজ দেওয়ার পরও না করলে তখন বলতে পারে। অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পরই অভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলতে পারে।’

আলাপের সময় বিভিন্ন এলাকার হিজড়ারা উত্তরণ ফাউন্ডেশন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের নাম বারবার উচ্চারণ করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) হাবিবুর রহমান বেদে ও হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে উত্তরণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সাল থেকে এ ফাউন্ডেশনের আওতায় হিজড়াদের অংশগ্রহণে ঢাকার আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় উত্তরণ বিউটি পারলার, ডেইরি ফার্ম, ট্রেনিং সেন্টার ও বুটিক হাউস, মিনি গার্মেন্টস, টেইলার্স স্থাপন করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশের উত্তরণ ফাউন্ডেশন ও ভারতের হাবিব ফাউন্ডেশনের এক চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বখ্যাত হেয়ার এক্সপার্ট জাভেদ হাবিবের তত্ত্বাবধানে হেয়ার ফ্যাশনে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা। বর্তমানে দুজন এ প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে হিজড়াদের প্রশ্ন হাবিবুর রহমানের মতো কতজন ব্যক্তি হিজড়াদের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন? লাবণ্যসহ অন্য হিজড়াদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র কতটুকু আন্তরিক?

সমাজসেবা অধিদপ্তর, পুলিশ এমনকি হিজড়া জনগোষ্ঠীও হিজড়াদের পুনর্বাসনে পরিবারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু হিজড়া পরিচয় দেওয়ার কারণে পরিবার যদি হিজড়াদের পথে ঠেলে না দিত তাহলে হয়তো অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যেত। এ ছাড়া হিজড়া কমিউনিটিকেও নিজেদের ভালোটুকু বুঝতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Design & Develop BY Our BD It
© All rights reserved © 2020 adibanglanewsbd
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102